জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশে যে কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং উচ্চমানের একাডেমিক পরিবেশের জন্য পরিচিত, তার মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (JU) অন্যতম। প্রতি বছর হাজার হাজার স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থী এই লাল ইটের ক্যাম্পাসে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। আপনি যদি এই স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান, তবে ভর্তি বিজ্ঞপ্তির প্রতিটি ছোট-বড় নিয়ম ও শর্ত সঠিকভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি।

আপনার সুবিধার্থে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত অফিশিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তিটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬ ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ও যাবতীয় তথ্যাবলীর একটি সম্পূর্ণ গাইডলাইন নিচে তুলে ধরা হলো।

এক নজরে ভর্তি পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী

ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আগে মূল তারিখ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জেনে রাখা প্রয়োজন:

  • আবেদন শুরুর সময়: ২২ নভেম্বর থেকে (বিকাল ০৪:০০ টা)
  • আবেদনের শেষ তারিখ: ০৭ ডিসেম্বর (রাত ১১:৫৯ টা পর্যন্ত)
  • প্রবেশপত্র ডাউনলোডের তারিখ: ১৫ ডিসেম্বর থেকে
  • ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ: ২১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর (শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত)
  • অফিশিয়াল ওয়েবসাইট: ju-admission.org
  • অফিশিয়াল ই-মেইল: admissionhelp@juniv.edu

আবেদন ফি ও সার্ভিস চার্জ

প্রতিটি ইউনিটে আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদন ফি অনলাইনের মাধ্যমে (ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড অথবা মোবাইল ব্যাংকিং) প্রদান করতে হবে। সার্ভিস চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত ১.২% প্রদান করতে হবে।

ইউনিট / ইনস্টিটিউট নির্ধারিত ফি (টাকা)
A, B, C এবং D ইউনিট ৮০০/- (প্রতিটি)
E ইউনিট ৭০০/-
C1 ইউনিট এবং আইবিএ-জেইউ (IBA-JU) ৬০০/- (প্রতিটি)

বিভিন্ন ইউনিটের প্রাথমিক শিক্ষাগত যোগ্যতা (General Requirements)

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চমাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় নির্দিষ্ট জিপিএ (GPA) থাকতে হয়। এখানে ৪র্থ বিষয়সহ জিপিএ গণনা করা হবে।

  1. পাসের সন:
  • মাধ্যমিক/সমমান: ২০২২ সাল এবং তার পরবর্তী বছরসমূহ।
  • উচ্চমাধ্যমিক/সমমান: ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে।
  1. ইউনিটভিত্তিক জিপিএ যোগ্যতা:
  • A ইউনিট (গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদ এবং আইআইটি): উভয় পরীক্ষায় মোট জিপিএ ৮.৫০ (পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০)।
  • B ইউনিট (সমাজবিজ্ঞান অনুষদ):
  • বিজ্ঞান শাখা: মোট জিপিএ ৮.৫০ (পৃথকভাবে ন্যূনতম ৩.৫০)।
  • মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা/অন্যান্য শাখা: মোট জিপিএ ৭.৫০ (পৃথকভাবে ন্যূনতম ৩.৫০)।
  • C ইউনিট (কলা ও মানবিকী অনুষদ, আইন অনুষদ ও বঙ্গবন্ধু তুলনা মূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট):
  • বিজ্ঞান শাখা: মোট জিপিএ ৮.৫০ ( পৃথকভাবে ন্যূনতম ৩.৫০)।
  • মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা/অন্যান্য শাখা: মোট জিপিএ ৭.৫০ (পৃথকভাবে ন্যূনতম ৩.৫০)।
  • C1 ইউনিট (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এবং চারুকলা বিভাগ): উভয় পরীক্ষায় মোট জিপিএ ৭.৫০ (পৃথকভাবে ন্যূনতম ৩.৫০)।
  • D ইউনিট (জীববিজ্ঞান অনুষদ): উভয় পরীক্ষায় মোট জিপিএ ৯.০০ (পৃথকভাবে ন্যূনতম ৪.০০)।
  • E ইউনিট (বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ):
  • মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে মোট জিপিএ ৮.০০
  • মাধ্যমিকে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ এবং উচ্চমাধ্যমিকে ন্যূনতম ৩.৫০ হতে হবে।
  • ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (IBA-JU):
  • বিজ্ঞান শাখা: মোট জিপিএ ৮.০০ (পৃথকভাবে ন্যূনতম ৩.৭৫)।
  • মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা/অন্যান্য শাখা: মোট জিপিএ ৭.৫০ (পৃথকভাবে ন্যূনতম ৩.৫০)।
  1. GCE (O-Level ও A-Level) শিক্ষার্থীদের জন্য যোগ্যতা:
  • ২০২০ সাল থেকে পরবর্তী সময়ে অন্তত ৫টি বিষয়ে O-Level এবং ২০২৪ বা ২০২৫ সালে অন্তত ২টিতে A-Level উত্তীর্ণ হতে হবে।
  • মোট ৭টি বিষয়ের মধ্যে কমপক্ষে ৪টি বিষয়ে ‘B’ গ্রেড এবং ৩টি বিষয়ে ‘C’ গ্রেড থাকতে হবে।

ইউনিটভিত্তিক বিষয়ভিত্তিক শর্তাবলী (Detailed Subject-wise Criteria)

কেবল প্রাথমিক জিপিএ থাকলেই চলে না, কাঙ্ক্ষিত বিভাগে ভর্তি হতে হলে উচ্চমাধ্যমিক এবং ভর্তি পরীক্ষায় নির্দিষ্ট নম্বরের শর্ত পূরণ করতে হয়।

১. A ইউনিট (গাণিতিক ও পদার্থ বিজ্ঞান অনুষদ এবং IIT)

  • গণিত: HSC-তে গণিতে ন্যূনতম ‘A’ গ্রেড এবং ভর্তি পরীক্ষায় গণিত অংশে ৫০% নম্বর পাওয়া আবশ্যক।
  • পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান: HSC-তে গণিত বা পরিসংখ্যানে ন্যূনতম ‘A’ গ্রেড।
  • রসায়ন: HSC-তে রসায়নে ন্যূনতম ‘A’ এবং গণিতে ‘A-‘ গ্রেড। ভর্তি পরীক্ষায় রসায়ন অংশে ৬০% নম্বর পেতে হবে।
  • পদার্থবিজ্ঞান: HSC-তে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতে পৃথকভাবে ন্যূনতম ‘A-‘ গ্রেড।
  • ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান: HSC-তে পদার্থ, রসায়ন ও গণিতে ন্যূনতম ‘A’ গ্রেড।
  • কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE): HSC-তে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে A+ গ্রেড এবং ভর্তি পরীক্ষায় গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানে পৃথকভাবে ৬০% নম্বর পেতে হবে।
  • পরিবেশ বিজ্ঞান: HSC-তে রসায়ন, পদার্থ, গণিত ও জীববিজ্ঞানে ন্যূনতম ‘A-‘ গ্রেড।
  • ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (IIT): HSC-তে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে ন্যূনতম ‘A’ গ্রেড এবং ভর্তি পরীক্ষায় গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানে পৃথকভাবে ৬০% নম্বর অর্জন করতে হবে।

২. B ইউনিট (সমাজবিজ্ঞান অনুষদ)

  • অর্থনীতি: HSC-তে ইংরেজি এবং গণিত/পরিসংখ্যান/অর্থনীতি/হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে ন্যূনতম A- গ্রেড।
  • ভূগোল ও পরিবেশ / সরকার ও রাজনীতি / নৃবিজ্ঞান: HSC-তে বাংলা ও ইংরেজিতে পৃথকভাবে ন্যূনতম A- গ্রেড। (নৃবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির জন্য ভর্তি পরীক্ষার বাংলা ও ইংরেজি উভয় অংশে পৃথকভাবে ৫০% নম্বর লাগবে)।
  • নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা: HSC-তে গণিত ও ইংরেজিতে পৃথকভাবে ন্যূনতম A- গ্রেড।
  • লোক প্রশাসন: HSC-তে ইংরেজিতে ন্যূনতম A- গ্রেড।

৩. C ইউনিট (কলা, মানবিকী, আইন ও অন্যান্য)

  • বাংলা: HSC-তে বাংলায় ‘A-‘ এবং ইংরেজিতে ‘B’ গ্রেড। ভর্তি পরীক্ষায় বাংলায় ৫০% ও ইংরেজিতে ৩০% নম্বর পেতে হবে।
  • ইংরেজি: SSC ও HSC উভয় পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে পৃথকভাবে A গ্রেড থাকতে হবে এবং ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে ৬০% নম্বর পেতে হবে।
  • ইতিহাস / দর্শন / প্রত্নতত্ত্ব / আন্তর্জাতিক সম্পর্ক / জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ / আইন ও বিচার / তুলনামূলক সাহিত্য: HSC-তে ইংরেজিতে ন্যূনতম A- গ্রেড।
  • বিশেষ শর্ত: জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ ও আইন এবং বিচারে ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে ৬০% এবং তুলনামূলক সাহিত্যে বাংলা ও ইংরেজিতে পৃথকভাবে ৪০% নম্বর পেতে হবে।

৪. C1 ইউনিট (নাটক ও চারুকলা)

  • নাটক ও নাট্যতত্ত্ব: বাংলাসহ অন্য যেকোনো একটি বিষয়ে ন্যূনতম ‘B’ গ্রেড।
  • চারুকলা: বাংলা ও ইংরেজি উভয় বিষয়ে পৃথকভাবে ‘B’ গ্রেড।
  • বিশেষ নিয়ম: C1 ইউনিটে এমসিকিউ (MCQ) ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পৃথকভাবে পাস করতে হবে এবং ২০ নম্বরের ব্যবহারিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪০% নম্বর পেতে হবে।

৫. D ইউনিট (জীববিজ্ঞান অনুষদ)

  • উদ্ভিদবিজ্ঞান: HSC-তে জীববিজ্ঞানে ‘A-‘ গ্রেড। ভর্তি পরীক্ষায় উদ্ভিদবিজ্ঞানে ৫০% নম্বর পেতে হবে।
  • প্রাণীবিদ্যা: HSC-তে জীববিজ্ঞানে ‘A’ গ্রেড। ভর্তি পরীক্ষায় প্রাণীবিদ্যায় ৫০% নম্বর পেতে হবে।
  • ফার্মেসী: HSC-তে রসায়ন ও জীববিজ্ঞানে ‘A’ গ্রেড এবং পদার্থ ও গণিতে ‘A-‘ গ্রেড। ভর্তি পরীক্ষায় রসায়ন ও জীববিজ্ঞানে পৃথকভাবে ৫০% নম্বর পেতে হবে।
  • বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি / মাইক্রোবায়োলজি / বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং: HSC-তে রসায়ন ও জীববিজ্ঞানে ‘A’ গ্রেড (বায়োটেকনোলজির জন্য গণিত ও পদার্থেও ‘A’ গ্রেড)। ভর্তি পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ৫০% নম্বর বাধ্যতামূলক।
  • পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরম্যাটিক্স: HSC-তে রসায়ন ও জীববিজ্ঞানে ‘A’ এবং ইংরেজি ও গণিতে ‘A-‘ গ্রেড।

৬. E ইউনিট (বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ)

  • ব্যবসায় শিক্ষা/মানবিক/অন্যান্য: HSC-তে ইংরেজি এবং গণিত/অর্থনীতি/হিসাববিজ্ঞান/ব্যবসায় নীতি বিষয়ে ন্যূনতম A- গ্রেড।
  • বিজ্ঞান শাখা: HSC-তে গণিত এবং ইংরেজিতে পৃথকভাবে ন্যূনতম A- গ্রেড।

৭. ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (IBA-JU)

  • বিজ্ঞান শাখা: HSC-তে ইংরেজি এবং উচ্চতর গণিত/পরিসংখ্যানে ন্যূনতম A- গ্রেড।
  • অন্যান্য শাখা: HSC-তে ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান/অর্থনীতি/গণিত/ব্যবসায় সংগঠনে A- গ্রেড।

ভর্তি পরীক্ষার মান বণ্টন (Syllabus & Marks Distribution)

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়।

ইউনিট বিষয়ভিত্তিক নম্বর বণ্টন
A ইউনিট বাংলা – ০৩, ইংরেজি – ০৩, গণিত – ২২, পদার্থবিজ্ঞান – ২২, রসায়ন – ২২, আইসিটি – ০৮
B ইউনিট বাংলা – ২০, ইংরেজি – ২০, সাধারণ গণিত – ২০, সাধারণ জ্ঞান – ১৫, যৌক্তিক বিশ্লেষণ – ০৫
C ইউনিট বাংলা – ২০, ইংরেজি – ২০, সাধারণ জ্ঞান ও বিভাগ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় – ৪০
C1 ইউনিট বাংলা – ১০, ইংরেজি – ১০, সাধারণ জ্ঞান – ২০, বিভাগ সংশ্লিষ্ট বিষয় – ৪০
D ইউনিট বাংলা – ০৪, ইংরেজি – ০৪, বুদ্ধিমত্তা – ০৪, রসায়ন – ২৪, জীববিজ্ঞান – ৪৪ (উদ্ভিদবিজ্ঞান-২২, প্রাণীবিদ্যা-২২)
E ইউনিট ব্যবসায় শিক্ষা: বাংলা-২০, ইংরেজি-২০, হিসাববিজ্ঞান-২০, ব্যবস্থাপনা-২০।

বিজ্ঞান/মানবিক: বাংলা-২০, ইংরেজি-২০, গণিত ও Analytical Ability-২০, বিজনেস সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান-২০।

IBA-JU বাংলা – ০৫, ইংরেজি – ৩০, Mathematical Aptitude and IQ – ৩০, সাম্প্রতিক ও বিশ্লেষণমূলক বিষয় – ১৫। (বাংলা অংশ ব্যতীত সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্র ইংরেজিতে হবে)

ভর্তি পরীক্ষার নিয়মাবলী ও পাস নম্বর

১. পরীক্ষার নম্বর ও সময়:

  • ৮০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সময় ৫৫ মিনিট।
  • ওএমআর (OMR) পূরণের জন্য আলাদাভাবে ৫ মিনিট সময় দেওয়া হবে।

২. নেগেটিভ মার্কিং:

  • প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২০ (শূন্য দশমিক দুই শূন্য) নম্বর কাটা যাবে।

৩. পাস নম্বর:

  • MCQ পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ৪৫% (অর্থাৎ ৮০ নম্বরের মধ্যে ৩৬ নম্বর পেতে হবে)।

৪. ল্যাঙ্গুয়েজ অপশন:

  • ইংরেজি মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে চাইলে আবেদনের সময় “ইংরেজি” অপশন নির্বাচন করতে হবে।

মেধা তালিকা তৈরির পদ্ধতি (Selection Process)

লিখিত পরীক্ষা এবং এসএসস ও এইচএসসির জিপিএর ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত মেধা তালিকা প্রস্তুত করা হয়:

  1. নম্বর সমীকরণ:
  • লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে জিপিএ নম্বর যোগ করা হবে।
  • আসন সংখ্যার সর্বাধিক ১০ (দশ) গুণ প্রার্থীর পৃথক মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে।
  1. জিপিএ ক্যালকুলেশন:
  • এসএসসি/সমমান জিপিএ ১.৫ (সর্বোচ্চ ৭.৫)
  • এইচএসসি/সমমান জিপিএ ২.৫ (সর্বোচ্চ ১২.৫)
  • অর্থাৎ, জিপিএর ওপর মোট ২০ নম্বর থাকবে।
  1. O/A Level জিপিএ মান:
  • A Grade = 5 Point, B Grade = 4 Point, C Grade = 3.5 Point, D Grade = 3 Point.

অনলাইন আবেদন করার সঠিক নিয়ম step-by-step

১. রেজিস্ট্রেশন ও ভেরিফিকেশন:

  • ju-admission.org ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ন্যূনতম যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।
  • নিজের বা অভিভাবকের নিশ্চিত মোবাইল নম্বর প্রদান করে প্রাপ্ত পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করতে হবে।

২. ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড:

  • ছবি: সম্প্রতি তোলা কালার ছবি (৩০০ ৩০০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ১০০ KB, JPG/JPEG ফরম্যাট)।
  • স্বাক্ষর: সাদা কাগজে করা স্বাক্ষর (৩০০ ৮০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ৬০ KB, JPG/JPEG ফরম্যাট)।

৩. ফি প্রদান:

  • ড্যাশবোর্ড থেকে কাঙ্ক্ষিত ইউনিট নির্বাচন করে নির্ধারিত ফি বিকাশ, রকেট, নগদ বা কার্ডের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে।

৪. প্রবেশপত্র সংগ্রহ:

  • ১৫ ডিসেম্বর থেকে প্রার্থীরা নিজ প্রোফাইলে লগইন করে ইউনিটভিত্তিক প্রবেশপত্র ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারবেন।

হেল্পলাইন ও জরুরি যোগাযোগ

আবেদন বা ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করা যাবে (সকাল ১০:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ০৭:০০ টা পর্যন্ত):

  • আবেদন ও পেমেন্ট সমস্যা: 01327361801, 01753987277, 01780056077
  • সাধারণ জিজ্ঞাসা: 01753987277, 01850877333
  • ই-মেইল সাপোর্ট: admissionhelp@juniv.edu

শেষ কথা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬ ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে হলে সঠিক তথ্যের পাশাপাশি কৌশলগত প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। প্রতিটি ইউনিটের নির্দিষ্ট নম্বর বণ্টন ও পাস মার্কের শর্ত মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিলে চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। শুভকামনা সকল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য!

Leave a Comment